পবিত্র আশুরার দিনের ফজিলত

আরবি হিসাব অনুযায়ী মুহাররম মাস হল বছরের প্রথম মাস। আর জিলহজ হলো সর্বশেষ মাস। এ দুই মাস ই হলো সম্মানিত মাস। এই মাসগুলোতে জাহিলি যুগেও যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। মহরম মাস দিয়েই হিজরি নববর্ষ আরম্ভ হয়। সুতরাং ইসলামে এ মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাছাড়া এ মাসের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা। এদিনের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য সহীহ হাদিস রয়েছে।এ মাসকে শাহারুল্লাহ তথা আল্লাহর মাস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন‌। মাহে রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো মুহাররম মাসের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো কিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদের নামাজ (সহীহ মুসলিম,হাদিস নং ২৬৬৫)

এবং বুখারী শরীফের বর্ণনায় উম্মি জান আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে আশুরার দিনে রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন পরে রমজানের রোজা ফরজ করা হলে তখন যার ইচ্ছা আশূরার রোজা পালন করতো আর যার ইচ্ছা করত না, উক্ত বর্ণীত হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় রমজানুল কারীমের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে প্রায় বাধ্যতামূলকভাবেই আশুরার রোজা কে গুরুত্ব সহকারে আদায় করা হতো (সহি বুখারী হাদিস নং ১৮৭৫)

সহি বুখারী শরীফে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইহুদিগন আশুরার দিন রোজা পালন করছে, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কি ব্যাপার তোমরা এই দিনের রোজা রাখ কেন তারা বলল এটি একটি উত্তম দিন এদিনে আল্লাহ তা’আলা বানী ইসরাইলকে তাদের শত্রুর কবল হতে মুক্তি দান করেন ফলে এদিনে মুসা আলাইহি সালাতু ওয়াস সালাম রোজা পালন করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন আমি তোমাদের অপেক্ষায় মূসার অধিক হকদার। এরপর থেকে তিনি এদিন রোজা পালন করেন এবং অন্যদেরকেও রোজা পালনের নির্দেশ দেন(সহি বুখারী হাদিস নং ১৮৭৫)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে ব্যক্তি আশুরার দিন রোজা রাখল সে যেন পুরো বছর রোজা রাখল। আর যে ব্যক্তি ঐ দিন সাদকা করল সে যেন সারা বছর সদকা করলো(আদ দুরুল মনসুর, ৪র্থ খন্ড ৫৪০ পৃষ্ঠা)

পবিত্র আশুরার দিন পরিবার-পরিজন এবং গরিব বিস্কীনকে পরিতৃপ্ত ভাবে পানাহার করালে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ঐ ব্যক্তির রিজিকে বরকত দান করেন।

এই মর্মে হাফিজ যাইয়িন ইরাকি (র) ইমাম বায়হাকি রাহমাতুল্লাহি আলাইহির উদ্ধৃতি দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেন যে ব্যক্তি পবিত্র আশুরার দিন নিজের পরিবার-পরিজনকে পরিতৃপ্ত ভাবে পানাহার করাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এই ব্যক্তির রুজি রোজগারের বরকত দান করেন।

আলোচ্য হাদিস গুলো থেকে এটিই প্রতিয়মান যে পবিত্র আশুরার দিনের রোজা এবং দান সদাকাত মহান আল্লাহ তা’আলার কাছে অধিক মর্যাদার দাবিদার।

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার নিয়ম ৯/১০ অথবা ১০/১১ তারিখে রোজা রাখা পবিত্র সুন্নাহের অন্তর্ভুক্ত। যদিও পবিত্র আশুরার নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট নফল নামাজ নেই। তদীও ওলিকুল শিরোমনি দরবেশ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানী (র.) তিনার গুনিয়াতুত তলেবীনের ৪২৭ পৃষ্ঠায় এবং আব্দুল হক মহাদ্দিস দেহলবী (র.) মাসাবাত বিস সুন্নাহ নামক গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ্য রয়েছে,

যে ব্যক্তি আশুরার দিন চার রাকাত নামাজ এভাবে পড়বে প্রতি রাকাতে একবার সূরা ফাতিহা পড়বে এবং তার সাথে ৫০ বার সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তায়ালা ঐ ব্যক্তির বিগত পঞ্চাশ বছরের এবং আগত ৫০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন আর জান্নাতে তার জন্য নূরের সহস্র প্রাসাদ নির্মাণ করে রাখবেন ।

মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা আমাদের সবাইকে পবিত্র আশুরার দিনের ফজিলত অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমীন

লেখক: হাফেজ মাওলানা মুফতি মূর্তাজা ইবনে মোস্তফা সালেহী।

পরিচালক: আল মোজাদ্দেদিয়া (এ.এম)ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।