শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী বুলবুলের লাশ একনজর দেখতে মানুষের ভিড়

আশিকুর রহমান, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদকে (২২) ছুরিকাঘাতে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী গাজিকালুর টিলায় বুলবুল এর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা শাবি প্রশাসনকে খবর দেন।

পরে বুলবুলের দেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। সে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াহাব মিয়ার ছেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের ২১৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। নিহত বুলবুল চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। বাবা ওয়াহাব মিয়া আট মাস আগে মারা যান। এরপর থেকেই পরিবারটির একমাত্র আশা-ভরসা ছিল বুলবুল। তার বড় ভাই জাকারিয়া আহমেদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

তার মৃত্যুর সংবাদ বাড়িতে পৌঁচ্ছোলে শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে বুলবুলের বাড়িতে আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বুলবুলের লাশ একনজর দেখার জন্য মানুষ ভিড় জমাতে থাকেন। অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে অবশেষে বুলবুলের লাশ সন্ধ্যা ছয়টায় তার নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছে। তার লাশ দেখে সহপাঠী, স্বজন ও এলাকার নারী-পুরুষেরা কান্নায় ভেঙে পড়ে।

এসময় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বুলবুলের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে বাড়িটিতে এসেছেন স্বজন, এলাকাবাসী, সহপাঠীসহ হাজারোও মানুষ নিহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে দেখা গেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে জেএসসি পাস করেন বুলবুল।

এরপর শহরের সাটিরপাড়া কে কে ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।

এলাকা সূত্রে জানা যায়, বুলবুল একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। ছোটকাল থেকেই সে লেখাপড়ায় ভালো ছিল। অত্যন্ত ভদ্র ও মিশুক একজন ছেলে ছিল। কারও সাথে সে কোনদিন খারাপ আচরণ করেননি। এলাকার মানুষ তাকে আদর ও ভালোবাসতো। পরিবারের অনেক আশা ছিল সে লেখা পড়া সে করে বিসিএস দিয়ে উচ্চ পদে চাকরী করে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবে এবং এলাকার সুনাম বৃদ্ধি করবে।

কিন্তু কিভাবে কি হয়ে গেলো বুঝতে পারছিনা। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হোক। পরে মাগরিবের নামাজের পর ভেলানগর মাইক্রোস্ট্যান্ডে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় হাজারো মুসুল্লি অংশগ্রহণ করেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।