নিউমার্কেটে সংঘর্ষ: বিএনপির ১৪ নেতাকর্মীর আগাম জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী, দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষের সময় পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় বিএনপির ১৪ নেতা-কর্মীর আগাম জামিন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে তাদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেওয়া হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারলে শাহীন আহমেদ খান।

জামিন প্রপ্তরা হলেন- আমীর হোসেন আলমগীর, মিজান, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহিদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারী, আসিফ, রহমত, বিল্লাল, মনির, জুলহাস ও বাবুল। জামিনের মেয়াদের মধ্যেই তাদের সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী কায়সার কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে যে মামলাটি পুলিশ করেছে, তার মধ্যে ২৩ নম্বর আসামি মিন্টু মারা গেছেন দুই বছর আগে। আর চার নম্বর আসামি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি টিপু সাত বছর ধরে জাপানে আছেন। ’ তিনি বলেন, ‘এ মামলাটি ভঙ্গুর পুলিশ প্রশাসনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ মমালা দেওয়া হয়েছে। আর এ কাজে সরকার পুলিশকে ব্যবহার করেছে। ’

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের দোকান কর্মচারী, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় গত ১৮ এপ্রিল রাতে। এ সংঘর্ষে দুজনের প্রাণ গেছে। পরে এ ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়। এর মধ্যে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা করেছেন নিউ মার্কেট থানার এসআই মেহেদী হাসান। একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়ামিন কবির পুলিশের কাজে বাধা, হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন। আর সংঘর্ষের মধ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নাহিদ মিয়াকে। পরে নাহিদের চাচা মো. সাঈদ একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর চারদিনের মধ্যে গত ২১ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দোকান কর্মচারী মো. মোরসালিন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন বড় ভাই নুর মোহাম্মদ। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী মিলিয়ে এ চার মামলায় প্রায় ১৬শ’ মানুষকে আসামি করা হয়েছে।